১১ বহুজাতিক কোম্পানির বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার কোটি টাকা

চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশের পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন দুটোই ছিল নিম্নমুখী।

চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশের পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন দুটোই ছিল নিম্নমুখী। এ সময়ে বিদেশী বিনিয়োগ পরিস্থিতিও ছিল হতাশাজনক। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারের ভালো শেয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও গত ছয় মাসে তালিকাভুক্ত ১৩ বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে ১১টিরই শেয়ারদর কমেছে। এ সময়ে তালিকাভুক্ত ১১ বহুজাতিক কোম্পানির বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার ৬৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলতি বছরের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৭১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার বাজার মূলধন কমেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির (বিএটিবিসি)। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৩৬ কোটি ২০ লাখ টাকায়। যেখানে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ১৯ হাজার ৮৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

টেলিযোগাযোগ খাতের বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোনের বাজার মূলধন চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ হাজার ৭৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা কমেছে। গত জুন শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ৪০ হাজার ৮৭৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৪৩ হাজার ৬২৮ কোটি ২০ লাখ টাকায়।

টেলিযোগাযোগ খাতের তালিকাভুক্ত আরেক বহুজাতিক কোম্পানি রবি আজিয়াটার বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৯৩৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। গত জুন শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ১২ হাজার ৮৮৫ কোটি ৩০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যেখানে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে বাজার মূলধন ছিল ১৪ হাজার ৮২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের বাজার মূলধন চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৭৫৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা কমেছে। গত জুন শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ৫ হাজার ৫০৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৬ হাজার ২৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের বাজার মূলধন গত ছয় মাসে ৪৯৬ কোটি ১০ লাখ টাকা কমেছে। এ বছরের জুন শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। যেখানে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে বাজার মূলধন ছিল ২ হাজার ৫৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের বাজার মূলধন কমেছে ৪১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত জুন শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ৪ হাজার ৫০০ কোটি ৬০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যেখানে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৪ হাজার ৯১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের বাজার মূলধন গত ছয় মাসে ৪০০ কোটি ২০ লাখ টাকা কমেছে। লিন্ডে বাংলাদেশের বাজার মূলধন গত ছয় মাসে ২৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকা কমেছে।

বাটা সু কোম্পানি বাংলাদেশের বাজার মূলধন চলতি বছরের প্রথমার্ধে ১৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকা কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশের বাজার মূলধন ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা ও সিঙ্গার বাংলাদেশের বাজার মূলধন ৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা কমেছে।

আরও